• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সেই পুরুষ অধম হলেও তুমি নারী উত্তম…

।। খুজিস্তা নূর-ই-নাহারিন (মুন্নি) ।।

অবিবাহিত, ডিভোর্স কিংবা বিধবা নারী মানেই যেন সকলের কৌতূহল। সেই নারী সুন্দর করে সাঁজতে পারবে না, মন খুলে হাসতে পারবে না, প্রতিটি পদক্ষেপেই তাঁর দোষ। হয় নতজানু হও নয়তো সমালোচনা সহ্য কর। একা একটা মেয়ের যেন সাহসী হতে মানা। সবসময় সিম্পেথি কুড়োবে, করুণা ভিক্ষা চাইবে, কাঁদো কাঁদো চোখে বলবে আমি অসহায়। কারণ মানুষ ঈর্ষার চেয়ে করুণা করতে বেশি পছন্দ করে। কেউ খারাপ আছে দেখলে নিজের সুখ তখন উছলে পরতে চায়।

বুড়ো হোক কিংবা বয়সে নিজের ছেলের সমান হোক পুরুষ তো! একা নারীকে উত্যক্ত করা, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা যেন তাঁর অধিকার। আর নারী সবসময় সহ্য করবে কারণ সে একা। একা থাকাটাই নারীর জন্য সবচেয়ে বড় পাপ।

সব ক্ষেত্রে যে শুধু পুরুষের দোষ তা কিন্তু নয়, আমরা নারীরা নিজেরা নিজেদের দুর্বল মনে করি, অন্যের গলগ্রহ হয়ে থাকতে বেশি পছন্দ করি, প্রয়োজন অপ্রয়োজনে অন্যের কৃপা প্রার্থী হই। খুব সহজ বিষয় যে গুলো শুধুমাত্র গুরুত্ব বা পাত্তা না দিলেই হয় সে গুলোকে ইস্যু বানিয়ে তোলপাড় শুরু করে দেই।

আপনি একা মেয়ে মানুষ, পুরুষ শাসিত সমাজের কিছু অপদার্থ কীট আপনাকে ডিস্টার্ব করবেই। সময়ে অসময়ে আপনাকে ফোন করবে, ইনবক্সে নোংরা ছবি পাঠাবে, অশোভন মন্তব্য করে আপনাকে হতচকিত করতে চাইবে কখনও উল্টা-পাল্টা কথা বলে কষ্ট দিতে চাইবে কিন্তু আপনি পাত্তা দিবেন কেন!

আপনি ভাবছেন আপনি একা আছেন বলে সুযোগ নিতে চাইছে কিন্তু আসলে না, তারা মূলত চামবাজ সুযোগ সন্ধানী সবখানেই সুযোগ খুঁজে বেড়ায়। নিতান্তই যদি অসহ্য লাগে আপনিও গালি দিন, প্রয়োজনে পুরুষের থেকেও নোংরা কথা বলুন, যে করেই হোক প্রমাণ করুন আপনি এতোটা সস্তা নন।

শিক্ষাজীবনে আপনি আপনার মেধার প্রতিযোগিতায় ওদেরকে অতিক্রম করেছেন। কর্মক্ষেত্রে আপনি মেধার সঙ্গে যোগ্যতা ও দক্ষতার বিচারে তাদেরকে পরাস্ত করে নিজেদের জায়গা করেছেন। সততায়, চারিত্রিক দৃঢ়তায় তারা যতটা সস্তা, আপনি ততটাই উন্নত। আপনার প্রতি পদে পদে বাধার সংগ্রাম। কিন্তু আপনার পথ, লক্ষ্য ও গন্তব্য স্বচ্ছ। সংসার, সন্তান সামলে আপনি আপনার জায়গা করেন। আপনার যুদ্ধ ঘরে-বাইরে। ওরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পশ্চাদপদ চিন্তাধারা লালন করে এইটুকুই স্বান্তনা খুঁজে, আমি পুরুষ, কর্তৃত্ব আমার হাতে। পরিবারকে ঠকাবো, বহুগামী হবো, ব্যভিচারী করবো, মানুষ ঠকাবো, কোথাও কারো ঘাড়ে হাত, কোথাও পায়ে হাত, কোথাও আমিই বড় আবার কোথাও কারো দাসত্ব। ব্যক্তিগত জীবনে নীতি আর্দশ ও মূল্যবোধের বালাই নেই, এরা নিজে সুখী হতে জানে না। অন্যের সুখ ও আনন্দ দেখলে ইর্ষার অনলে পুরে।

ডিভোর্সী, কুমারী কিংবা বিধবা নারী যখন সংসার জীবনে সন্তানদের মানুষ করে পেশাগত জীবনে সাফল্য অর্জন করে দৃপ্ত পায়ে হেঁটে যায়, তখন তাদের পৌরুষে বড় বেশি লাগে। শিক্ষা ও অগ্রসর সমাজের আলো, প্রগতিশীলতার ছায়া তাদের মন মানসিকতা বদলাতে পারে না। পুরোনো ধ্যান-ধারণা নিয়ে মানসিক বিকৃতিতে নিমগ্ন থেকে যে কাউকেই চাইলেই পাওয়া যায়-এমনটিই মনে করে। হাত বাড়ায়, সেই হাত প্রত্যাখাত হলেই আর্তনাদ করে উঠে লাথিখাওয়া কুকুরের মতো। পেশাগত জায়গায়, সামাজিকতায় নারী যখন যোগ্যতা ও নেতৃত্বে এগিয়ে যায় তখন যন্ত্রণাবিদ্ধ হয়, লজ্জা, গ্লানিতে কুঁকড়ে যায়। আড়ালে আবডালে সমালোচনা করে।

নিজের ব্যর্থতাকে, অযোগ্যতাকে, অদক্ষতাকে মেনে নিতে না পেরে পৌরুষত্বের পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে তথন নারীকে একাই হোক আর ভরা সমাজেই হোক টিপ্পনী কাটে। আপনি মানুষ, আপনি গর্বিত মা-ই নন, কিংবা আপনি কুমারীই হোন; মুখের ওপর ওদেরকে উচিত জবাব দিন। যাতে দ্বিতীয়বার আর কোথাও গিয়ে লাথি খেতে না হয়।

একদল বিকৃত পুরুষের জীবনে ভাদ্র মাস পিছু ছাড়ে না। ব্যক্তিত্ব, রুচি বিসর্জন দিয়ে বহুগামিতার পথ ধরে হাঁটে। একে একে বহু বিবাহের রেকর্ড গড়ে। দোষ চাপাতে চায় নারীর ওপর। প্রতারিত করে আত্মপ্রতারণার পথে নারীকে মনে করতে চায় সস্তা। গণ্ডমূর্খের দল বুঝতেও পারে না, সামন্তযুগ কবে বাসি হয়ে গেছে। পশ্চাদপদ আবহ থেকে সমাজ কতটা অগ্রসর হয়েছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিকতা, দর্শন, সাহিত্য, খেলাধুলা, চন্দ্রগমন, আকাশে উড়া এমনকি সামরিক যোদ্ধা হয়ে উঠা নারীর কাছে এখন হাতের মুঠোয়। নারী তার মেধা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, আদর্শবোধ, যোগ্যতা ও নেতৃত্বের মহিমায় অযোগ্য, অর্থব, মেরুদণ্ডহীন পদে পদে চরিত্র হারানো একদল তথাকথিত সমাজে পোশাকী চেহারায় পথহাঁটা পুরুষের চেয়ে অনন্য প্রতিভায় উদ্ভাসিত হয়েছে। সমাজ, সংসার, জগত এই নারীদের সম্মান দিচ্ছে, সমীহ করছে। সেমিনার, গোলটেবিল, নীতি নির্ধারণ, গণমাধ্যমের নানা আয়োজন, টেলিভিশন টক শো সর্বত্র তাদের কদর বাড়ছে। এটা নারীর যোগ্যতার ভিত্তিতে অর্জন। এই অর্জন মেনে নিতে না পেরে আত্মগ্লানিতে দ্বগ্ধ, মানসিক দারিদ্রতায় অভিশপ্ত যে পুরুষ মেনে নিতে পারে না, তার সমালোচনা, তার টিপ্পনী শুধু অগ্রাহ্যই করবেন, তাকে বুজিয়ে দিন সেই পুরুষ অধম হলেও তুমি নারী উত্তম।

লেখক: সম্পাদক, পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ